1. newsofbangla247@gamil.com : Newsofbanglatv : newsofbanglatv newsofbanglatv
  2. 6846serious@uberip.com : superadmin :
যা একসময় শুধু প্রেক্ষাগৃহে দেখা যেত, আজ তা সমাজের বাস্তব চিত্র - News Of Bangla TV যা একসময় শুধু প্রেক্ষাগৃহে দেখা যেত, আজ তা সমাজের বাস্তব চিত্র - News Of Bangla TV
October 28, 2026, 6:27 pm

যা একসময় শুধু প্রেক্ষাগৃহে দেখা যেত, আজ তা সমাজের বাস্তব চিত্র

মোঃ নাজির হোসেন
  • Update Time : Thursday, August 6, 2026
  • 158 Time View

যা একসময় শুধু প্রেক্ষাগৃহে দেখা যেত, আজ তা সমাজের বাস্তব চিত্র

উপসম্পাদকীয়

একসময় মানুষের বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল সিনেমার প্রেক্ষাগৃহ। সেখানে দর্শক কল্পনার জগতে প্রবেশ করতেন, হাসতেন, কাঁদতেন, শিহরিত হতেন। চলচ্চিত্রে প্রেম, প্রতারণা, সংঘাত, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, অপরাধ কিংবা নৈতিক অবক্ষয়ের নানা দৃশ্য থাকলেও অধিকাংশ মানুষ সেগুলোকে কেবল অভিনয় ও গল্প হিসেবেই গ্রহণ করতেন। বাস্তব জীবন এবং পর্দার জীবনের মধ্যে একটি স্পষ্ট সীমারেখা ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই সীমারেখা যেন ক্রমেই মুছে যাচ্ছে। যা একসময় কেবল প্রেক্ষাগৃহের পর্দায় দেখা যেত, আজ তার অনেক কিছুই সমাজের বাস্তবতায় প্রতিনিয়ত দৃশ্যমান।

বিশ্বায়ন, তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভূতপূর্ব প্রসার মানুষের জীবনযাত্রায় যেমন ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে, তেমনি কিছু নেতিবাচক প্রবণতাও তৈরি করেছে। আজ মানুষের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক বিরোধ, সামাজিক সংঘাত, অপসংস্কৃতি, অশালীনতা এবং সহিংসতার নানা চিত্র মুহূর্তেই কোটি মানুষের সামনে চলে আসে। ফলে মানুষ বাস্তব ও অভিনয়ের পার্থক্য অনেক ক্ষেত্রেই ভুলে যেতে শুরু করেছে।

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতা এক নতুন সামাজিক সংকট সৃষ্টি করেছে। অনেকেই সাময়িক জনপ্রিয়তার আশায় এমনসব কাজ করছেন, যা ব্যক্তিগত মর্যাদা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক শালীনতার পরিপন্থী। একসময় এসব দৃশ্য সিনেমার গল্পে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন বাস্তব জীবনের ঘটনাই যেন চলচ্চিত্রকে হার মানাচ্ছে।

পারিবারিক সম্পর্কেও পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট। আগে পরিবার ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের কেন্দ্র। আজ সামান্য ভুল বোঝাবুঝি, অর্থনৈতিক চাপ কিংবা আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতার কারণে সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে। বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান, প্রতিবেশীর প্রতি আন্তরিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর প্রভাব সমাজের প্রতিটি স্তরে পড়ছে।

তবে এর জন্য কেবল চলচ্চিত্র বা বিনোদনমাধ্যমকে দায়ী করা ন্যায্য হবে না। চলচ্চিত্র সমাজের প্রতিচ্ছবিও হতে পারে, আবার সমাজও কখনো কখনো চলচ্চিত্রকে অনুকরণ করে। মূল প্রশ্ন হলো—আমরা কোন মূল্যবোধ নিয়ে বেড়ে উঠছি এবং আমাদের নতুন প্রজন্মকে কী শিক্ষা দিচ্ছি। যদি পরিবারে নৈতিক শিক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানবিকতা এবং সমাজে ইতিবাচক সাংস্কৃতিক চর্চা শক্তিশালী হয়, তবে নেতিবাচক প্রভাব অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

See also  সান্তাহার স্টেডিয়াম আধুনিকায়নের উদ্যোগ পরিদর্শনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রকৌশলী

গণমাধ্যমেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি ইতিবাচক উদ্যোগ, মানবিক গল্প, সৎ মানুষের সংগ্রাম ও সফলতার কাহিনি বেশি করে তুলে ধরতে হবে। একইভাবে চলচ্চিত্র নির্মাতাদেরও বিনোদনের পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সুস্থ সংস্কৃতি মানুষকে অনুপ্রাণিত করে, আর অপসংস্কৃতি সমাজকে বিভক্ত ও দুর্বল করে।

অভিভাবকদের দায়িত্বও কম নয়। সন্তান কী দেখছে, কী শিখছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে ব্যবহার করছে—এসব বিষয়ে সচেতন নজরদারি প্রয়োজন। নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং যুক্তি, ভালোবাসা এবং নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে সন্তানকে সঠিক পথ দেখাতে হবে। কারণ আগামী দিনের সমাজ গড়ে উঠবে আজকের শিশু-কিশোরদের হাত ধরেই।

একটি সভ্য সমাজ কেবল প্রযুক্তিগত উন্নয়নে নয়, মানুষের চরিত্র, মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে সমৃদ্ধ হয়। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের অবস্থান থেকে মানবিকতা, শালীনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের চর্চা করা। পর্দার কল্পনা যেন বাস্তব জীবনের অবক্ষয়ের কারণ না হয়; বরং বাস্তব জীবনই হোক সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও আদর্শের প্রতিচ্ছবি।

আজ প্রয়োজন আত্মসমালোচনা। আমরা কি এমন একটি সমাজ গড়ে তুলছি, যেখানে মানুষ বাস্তবকে সুন্দর করবে, নাকি এমন এক সমাজ, যেখানে বাস্তব জীবনই ধীরে ধীরে নেতিবাচক বিনোদনের অনুকরণে পরিণত হবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা এবং সেই অনুযায়ী কাজ করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

BD IT HOST