এনডিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) রাতে অন্ধপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে জিএসএলভি-এফ১৮ রকেটের মাধ্যমে এই উপগ্রহটি উৎক্ষেপণ করা হয়। সফলভাবে নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্যাটেলাইটটি স্থাপন করার পর ইসরো চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন জানান, এর ফলে ভারত নির্ভুল সময় ও দিকনির্দেশনা ব্যবস্থার আরো কাছাকাছি পৌঁছে গেল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই সফলতার জন্য ইসরোর বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের সময় ভারত নিজস্ব নেভিগেশন সিস্টেম তৈরির উদ্যোগ নেয়, যা পরে ‘ন্যাভিক’ নামে পরিচিত হয়।
এটি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত নিখুঁত লোকেশন ও সময়ের হিসাব দিতে পারে। তবে অতীতে এই প্রকল্পের পথে বেশ কিছু বড় বাধা এসেছিল। বিশেষ করে আমদানি করা পারমাণবিক ঘড়িতে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কয়েকটি স্যাটেলাইট অকেজো হয়ে পড়েছিল। সেই সমস্যা কাটাতে ‘এনভিএস-০৩’ স্যাটেলাইটে এবার যুক্ত করা হয়েছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি পারমাণবিক ঘড়ি, যা ভারতকে প্রযুক্তির দিক থেকে আরো আত্মনির্ভর করে তুলেছে।
নেভিগেশনব্যবস্থা উন্নত করতে মহাকাশে ভারতের নতুন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ
এ ছাড়া এতে জনপ্রিয় ‘এল ওয়ান’ সংকেত যুক্ত থাকায় ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের স্মার্টফোন, বিমান চলাচল ও পরিবহন খাতে এটি সহজে ব্যবহার করা যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘এনভিএস-০৩’ একা পুরো নেটওয়ার্ক ঠিক করতে না পারলেও এটি ভারতের নিজস্ব ও স্বাধীন নেভিগেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে একটি ঐতিহাসিক এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।