ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সকালে ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও দুপুরের দিকে তা বাড়তে থাকে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কয়েকটি ভোটকেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
দুপুরে কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১১২ নম্বর রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঠাকুরগাঁও সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ভোটকেন্দ্র ঘুরে ভোটারদের উপস্থিতি ও ভোটগ্রহণের অগ্রগতি দেখা যায়।
রহিমনপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ কেন্দ্রে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট গ্রহণ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভোট পড়তে পারে বলে আশা করছি।
এ কেন্দ্রের ভোটার রহিমনপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের ফারাজুল ইসলাম ও প্রস্তমপুর গ্রামের ফরহাদ হোসেন বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিয়েছি। কেন্দ্রটিতে ভোটারদের উপস্থিতিও ভালো।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৩ নম্বর নির্বাচনী এলাকার ১১২ নম্বর রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক জানান, এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৮৭৬ জন। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ১ হাজার ৬৩৪ জন।
সকালে ভোটার কম থাকলেও দুপুরে বাড়ে উপস্থিতি
রায়পুর এলাকার ভোটার প্রমিলা ওরফে ক্ষেতী সরিয়ে জানান, আমি স্বামীর সঙ্গে এসে ভোট দিয়েছি। সকালে আমার ছেলে ও পুত্রবধূ ভোট দিয়েছেন। একই এলাকার ভোটার মাধাই চন্দ্রও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে আসেন।
ঠাকুরগাঁও সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ার কথা জানান গোবিন্দনগর এলাকার ভোটার আব্দুল লতিফ। অসুস্থ স্ত্রী শরিফা বেগমকে নিয়ে ভোট দিতে আসেন তিনি। আব্দুল লতিফ বলেন, অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে দোতলায় উঠতে তার অনেক কষ্ট হয়েছে। অসুস্থ ও চলাচলে সমস্যায় থাকা ভোটারদের জন্য দ্বিতীয় তলায় ভোটকক্ষ রাখা ঠিক হয়নি।
স্থানীয়ভাবে কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা যায়, সকালে ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও দুপুরের দিকে তা বাড়ে। দুপুর পর্যন্ত পরিদর্শন করা বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ভোট গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এটি সব কেন্দ্রের সামগ্রিক ভোটের হার নয়; সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য ও সরেজমিন পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
এ উপনির্বাচনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী এলাকার ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। মোট ভোটকক্ষ ৯৮৯টি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচ প্রার্থী। তারা হলেন- বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য-সমর্থিত মো. দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলিম নিজামী এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখা গেছে। সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৫ হাজার ৩০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। সব কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোট ১৮৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিকে বিশেষ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন সকালে ভোটার কম থাকলেও দুপুরে বাড়ে উপস্থিতি
নির্বাচনের আগে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, প্রচারে বাধা ও কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তোলা হলেও ভোটের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি, ভোটগ্রহণের পরিবেশ এবং প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতি দেখা গেছে।
বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, নিঃসন্দেহে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হচ্ছে। আমার কাছে সব ভোটারই আমার ভোটার। এ এলাকার সব ভোটারই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে আগ্রহী। আমার মনে হয়, প্রচুর ভোটার অংশ নেবেন। উপনির্বাচন হলেও ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। আমি এখনো মনে করি, ভোটারদের মতামতই চূড়ান্ত।
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর সফলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রিজভী
১১-দলীয় ঐক্য-সমর্থিত প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন বলেন, যেহেতু দলীয় সরকারের অধীনে এ নির্বাচন হচ্ছে, তাই এটি পুরোপুরি নির্ভর করছে সরকার ও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের ওপর। সরকার, প্রশাসন ও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা আন্তরিক হলে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারবেন। তাঁরা ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে স্থানীয় নির্বাচনসহ দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর গ্রহণযোগ্যতা জনগণের কাছে থাকবে না এবং নির্বাচন সম্পর্কে মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।
নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে যা হলো
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন বলেন, সকাল ৮টায় ১৮৫টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সব কেন্দ্র অনলাইন বডি-অন ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। তাঁর দাবি, সব জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে।