সাতক্ষীরায় প্রকাশনা উৎসব ও সাহিত্যসন্ধ্যা গল্প-কবিতা, আবৃত্তি ও স্মৃতিচারণে মুখরিত কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি
সাতক্ষীরায় প্রকাশনা উৎসব,গল্প-কবিতা আবৃত্তি, স্মৃতিচারণ ও সাহিত্য আলোচনা নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে মনোজ্ঞ এক সাহিত্যসন্ধ্যা।কাব্যতীর প্রকাশনী,বিশ্বভরা প্রাণ ও প্রথম আলো বন্ধুসভা সাতক্ষীরার যৌথ আয়োজনে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর)বিকেল ৫টায় সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
#সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে এবং কবি শিরিন সাদীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন যশোর এম এম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ,বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক প্রফেসর ড.মিজানুর রহমান,সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আবুল হাশেম,সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসুদেব বসু, যশোর সরকারি সার্ভে ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এম এম নজমুল হক,অধ্যক্ষ আশেক-ই এলাহি,জেলা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি শহীদুর রহমান,লেখক ও সম্পাদক কবি সৌহার্দ সিরাজ,অধ্যাপক কবি শুভ্র আহমেদ এবং বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী আবু আফ্ফান রোজবাবু।
#অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন‘মাটির আর্তনাদ’গল্পগ্রন্থের রচয়িতা শেখ সিদ্দিকুর রহমান।
#অনুষ্ঠানের শুরুতে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির প্রয়াত গুণিজন আব্দুল গফুর,অধ্যাপক শেখ সামছুর রহমান,অধ্যাপক তবিবুর রহমান,অধ্যাপক অসিত কুমার মজুমদার,আনিসুর রহিম,শাহেদা খানম,মীর আমজাদ আলী ও কবি সিরাজুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।
#পরে আমন্ত্রিত অতিথিরা‘মাটির আর্তনাদ’,‘শহর ছেড়ে শান্তিপুরে’,‘সুতোয় বোনা কবিতা’,‘কাব্যপুঞ্জ’,‘কাব্যলিপি’, ‘হৃদয় পত্র’,‘মেঘের খামে কবিতা’,‘বুনো বাতাসের কবিতা’, ‘গল্পপুঞ্জ’এবং কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ স্মারক গ্রন্থসহ বিভিন্ন গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।
#অনুষ্ঠানে লেখক শেখ সিদ্দিকুর রহমানের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন শান্তা ইসলাম,মৃত্যুঞ্জয় কুমার বিশ্বাসের জীবনী পাঠ করেন সুমাইয়া ইয়াছমিন এবং শেখ মনিরুল ইসলামের জীবনী পাঠ করেন অর্পা চক্রবর্তী।
#আবৃত্তি পর্বে রাইন চৌধুরীর নেতৃত্বে সব্যসাচী আবৃত্তি পরিষদের শিশুশিল্পীরা কবিতা পরিবেশন করেন।এছাড়া আবৃত্তি করেন দিলরুবা রুবী ও কাব্য সাদী।
#লেখক প্রতিক্রিয়া পর্বে সুমাইয়া ইয়াছমিন গল্পকার শেখ সিদ্দিকুর রহমানের লেখা ১৭টি গল্প নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন তুলে ধরেন।
#আলোচনায় প্রফেসর ড.মিজানুর রহমান বলেন,“একটি গল্পগ্রন্থের পাশাপাশি একই আয়োজনে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি কাব্যগ্রন্থের প্রকাশনা নিঃসন্দেহে সাতক্ষীরার সাহিত্যচর্চাকে সমৃদ্ধ করবে।এ ধরনের আয়োজন নতুন লেখকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি পাঠকসমাজের সঙ্গে লেখকদের যোগাযোগ আরও বাড়াবে।”
#সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আবুল হাশেম বলেন,‘মাটির আর্তনাদ’গ্রন্থে সমসাময়িক সমাজ ও জীবনের নানা বাস্তবতা উঠে এসেছে।গল্পগুলোতে সময়ের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ও চারপাশের বাস্তবতার প্রতিফলন পাওয়া যায়।”
#সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসুদেব বসু বলেন,“অনুষ্ঠানে আলোচক ও লেখকদের বক্তব্য ছিল প্রাণবন্ত ও হৃদয়গ্রাহী।‘মাটির আর্তনাদ’গ্রন্থে ভালোবাসা,সম্পর্ক ও ভাঙনের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা পাঠকের অনুভূতিকে নাড়া দেবে।আমি গ্রন্থটির লেখকসহ সব লেখকের সাফল্য কামনা করছি।”
#সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষাবিদ আব্দুল হামিদ বলেন,“শেখ সিদ্দিকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্য সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত থেকে লেখালেখিতে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন। তাঁর লেখায় নিয়মিত চর্চা ও অভিজ্ঞতার প্রতিফলন রয়েছে।অন্যদিকে মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস ও শেখ মনিরুল ইসলাম নতুন লেখক হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছেন।নিয়মিত সাহিত্যচর্চা অব্যাহত রাখলে তারাও ভবিষ্যতে ভালো লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন।”
#অনুষ্ঠানে কণ্ঠশিল্পী চৈতালি মুখার্জী,শিরিনাসহ শতাধিক কবি,সাহিত্যিক,লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
#নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন,সাহিত্য আলোচনা,কবিতা আবৃত্তি ও প্রয়াত গুণিজনদের স্মরণ—সব মিলিয়ে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির সাহিত্যসন্ধ্যাটি লেখক-পাঠক ও সংস্কৃতিকর্মীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।