ইসরায়েলে আরব দল ও ইহুদিদের সমন্বয়ে সরকার গঠনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন বামপন্থি কর্মীরা। স্থানীয় সময় বুধবার রাতে রাজধানী তেল আবিবে কয়েক’শ কর্মী জড়ো হয়ে এই দাবি জানান।
বৃস্পতিবার ৯০ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষ হলেও কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ব্লক ৫৩, গাদি আইজেনকোট ব্লক ৪৮ ও আরব ব্লক ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে।
ইসরায়েলে আরব-ইহুদি সরকার দাবিতে বিক্ষোভ, ভোট চুরির অভিযোগ খারিজ
বুধবার অর্ধেকের বেশি ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরও সরকার গঠনে অচলাবস্থা তৈরির ইঙ্গিত ছিল। এ অবস্থায় রাতে আরব-ইহুদি সহযোগিতার দাবিতে তেল আবিবে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা।
হারেৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন আইজেনকোট ব্লক ও আরবদের নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম সমঝোতা করতে পারলে সমন্বিত আসন সংখ্যা দাঁড়াবে ৬৭টি। যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের তুলনায় বেশি।
ইসরায়েলে আরব-ইহুদি সরকার দাবিতে বিক্ষোভ, ভোট চুরির অভিযোগ খারিজ
আইজেনকোট ব্লকের বামপন্থি নেতা ইয়ার গোলান বুধবার আরবদের সঙ্গে সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এই ব্লকের অন্য কয়েকজন নেতা আগে থেকেই সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।
বুধবার রাতে বিক্ষোভের সময় বামপন্থি কর্মীরা যৌথভাবে সরকার গঠনের দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দিচ্ছে।
চুরির অভিযোগ খারিজ
নির্বাচনে আরবদের গুরুত্ব বৃদ্ধির নেপথ্যে আছে রেকর্ড সংখ্যক আসন পাওয়ার সম্ভাবনা। যা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। দলগুলোর এমন সাফল্যের পেছনে জালিয়াতির ঘটনা আছে বলে বুধবার অভিযোগ করে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি।
তবে বৃহস্পতিবার এই অভিযোগ পুলিশ খারিজ করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল। হিব্রু ভাষার একাধিক গণমাধ্যমকে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, এমন অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার অনিয়মের ঘটনা খুবই কম ঘটেছে।
লিকুদের অভিযোগ প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এসব অভিযোগের পক্ষে তদন্ত বা গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক কোনো প্রমাণ নেই।’
আরব দলগুলোর সাফল্য নিয়ে লিকুদ পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ‘তারা ভোট চুরি করেছে।’ বুধবার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির (সিইসি) এক কর্মকর্তাও এই অভিযোগ খারিজ করে দেন।