কালীগঞ্জে পাওনা টাকা না পেয়ে দোকানে হামলা,মালামাল লুট, পুলিশি অভিযানে ২৩ বস্তা মালামাল উদ্ধার
হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ পাওনা ও সুদের টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাতের আঁধারে প্রকাশ্যে ইমরান হোসেন নামে তার মালিকাধীন ভিআইপি ফ্যাশানে হামলা চালিয়ে অপর ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা ৭০ লক্ষ টাকার গার্মেন্টস সামগ্রীর মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। পুলিশি তৎপরতায় ঐ রাতেই ২৩ বস্তা মালামাল উদ্ধার করে ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান পাড়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাঁশতলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রজব আলী সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা এ প্রতিনিধিকে জানান ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন ভিআইপি ফ্যাশানের মালিক ফতেপুর গ্রামের শওকত হোসেনের পুত্র ইমরান বাজারের অপর বিকাশ ব্যবসায়ী নীলকন্ঠপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ গাজীর পুত্র আলমগীর হোসেনের নিকট থেকে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা সুদে ধার নেয়।
উক্ত টাকা না দেওয়ায় দীর্ঘদিন সুদে-আসলে বিকাশ ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন ৭ লক্ষ টাকা পাবে বলে দাবি করে আসছিল। উক্ত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাজার ব্যবসায়ী সমিতের মাধ্যমে একাধিক বার বিচারে বসলেও কোন সুরাহা হয়নি বলে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রজব আলী জানান। পাওনা টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে শনিবার বিকাল থেকে বাজারে রাত সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে বিকাশ ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে ১৫-১৬ জনের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী নিয়ে ইমরান হোসেনের ভিআইপি ফ্যাশনের তালা ও ভেঙে দোকানের প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ওই সময় অস্ত্রের ভয়ে ইমরানের লোকজন বাধা দিতে সাহস পায়নি। অবস্থা বেগতিক দেখে বাঁশতলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে থানার উপ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থলে এসে অভিযান চালিয়ে দুর্বৃত্তদের নিকট থেকে ২৩ বস্তা মালামাল উদ্ধার করে। ঐ সময় উদ্ধারকৃত বিতর্কিত মালামাল দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান পাড়ার নিকট জিম্মায় রাখা হয়। ঘটনার পর থেকে দুই পক্ষকে এলাকায় না পেয়ে তাদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে থানার অফিসার্স ইনচার্জ শাহিন হোসেন আমাদের কন্ঠকে জানান গতকাল রাতে ফোন পাওয়ার সাথে সাথে আমি পুলিশ পাঠিয়েছি। উদ্ধারকৃত মালামাল এক বিএনপি নেতার জিম্মায় দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ঘটনার পর সকালে জামাত-বিএনপি’র একাধিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।