1. newsofbangla247@gamil.com : Newsofbanglatv : newsofbanglatv newsofbanglatv
  2. 6846serious@uberip.com : superadmin :
জীবিত ব্যক্তিকে ‘মৃত’ বদলির পরও আলোচনায় - News Of Bangla TV জীবিত ব্যক্তিকে ‘মৃত’ বদলির পরও আলোচনায় - News Of Bangla TV
October 29, 2026, 1:23 am

জীবিত ব্যক্তিকে ‘মৃত’ বদলির পরও আলোচনায়

সাভার প্রতিনিধি:
  • Update Time : Monday, August 17, 2026
  • 117 Time View
(ইউপি সচিব) আবুল কালাম আজাদ
(ইউপি সচিব) আবুল কালাম আজাদ

জীবিত ব্যক্তিকে ‘মৃত’ বদলির পরও আলোচনায় অনিয়ম, দুর্ব্যবহার, সম্পদের হিসাব ও জেলা প্রশাসনকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের

সাভারের ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ইউপি সচিব) আবুল কালাম আজাদকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে নাগরিক সেবা প্রদানে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিয়ে প্রশ্ন, ভাতা কার্যক্রমে অনিয়ম এবং সম্পদের উৎস নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠার পর সম্প্রতি তাকে ধামসোনা ইউনিয়ন থেকে বনগাঁও ইউনিয়নে বদলি করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বদলি কোনো অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে একজন জীবিত ব্যক্তিকে কাগজপত্রে ‘মৃত’ দেখিয়ে মৃত্যু নিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

জীবিত ব্যক্তিকে ‘মৃত’ দেখানোর অভিযোগ আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—একজন জীবিত ব্যক্তিকে সরকারি নথিতে ‘মৃত’ দেখিয়ে মৃত্যু নিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয়েছে।অভিযোগকারীদের দাবি, ঘটনাটি সত্য হলে এটি নিছক দাপ্তরিক ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিতে ভুল তথ্য অন্তর্ভুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিক অধিকার, সম্পত্তি, ব্যাংক হিসাব, উত্তরাধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রকৃত অবস্থা, মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন, সংযুক্ত কাগজপত্র, প্রত্যয়নকারী ব্যক্তি এবং সনদ ইস্যুর সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখার দাবি উঠেছে।নাগরিক সেবা নিয়ে হয়রানির অভিযোগ
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে।

See also  মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীঃ

বিশেষ করে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং অন্যান্য নাগরিক সেবা নিয়ে হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচিত ছিল বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

জীবিত ব্যক্তিকে ‘মৃত’ বদলির পরও আলোচনায়

তাদের প্রশ্ন, এসব অভিযোগের লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়েছিল কি না, হয়ে থাকলে সেগুলোর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল—তাও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।পরিষদ কার্যালয়ে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ভিডিওতে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের ভেতরে এক ব্যক্তির শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া করার দৃশ্য দেখা যায়।তবে ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, ঘটনার আগে-পরে কী হয়েছিল এবং সেখানে কার কী ভূমিকা ছিল—এসব বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
তাদের মতে, ভিডিওটি যদি সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করে প্রশাসনিক তদন্ত করা যেতে পারে।

ঢাকা জেলা প্রশাসনকে ঘিরেও ষড়যন্ত্রের অভিযোগএদিকে আবুল কালাম আজাদকে ঘিরে ঢাকা জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বা প্রশাসনিকভাবে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে নিজের স্বার্থ রক্ষায় তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছেন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বা ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে নেই। ফলে বিষয়টি নিশ্চিত সত্য হিসেবে নয়, অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।স্থানীয়দের দাবি, জেলা প্রশাসন চাইলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, অফিসিয়াল যোগাযোগ, অভিযোগ ও সিদ্ধান্তের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রকৃত ঘটনা বের করতে পারে।
সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন অন্যদিকে জাতীয় সাপ্তাহিক ‘বিশ্ব মিডিয়া’তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেছেন, আবুল কালাম আজাদের নামে ও বেনামে সাভার এলাকায় বাড়ি, জমিসহ বিপুল সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে।

See also  শিবগঞ্জে অবাধে চলছে বালু তোলার মহোৎসব দেখার যেন কেউ নেই

তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, মূল্য, ক্রয়ের সময় এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—একজন ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তার বৈধ আয় ও ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে তার নামে বা সংশ্লিষ্টদের নামে থাকা সম্পদের কোনো অসামঞ্জস্য আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখবে কি না।

তারা মনে করছেন, প্রয়োজন হলে দুদক, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ তার আয়-ব্যয়, সম্পদ বিবরণী, সম্পদ অর্জনের উৎস এবং দায়িত্ব পালনকালে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত করতে পারে।
বদলি হলেও কেন তদন্তের দাবি? আবুল কালাম আজাদকে ধামসোনা ইউনিয়ন থেকে বনগাঁও ইউনিয়নে বদলি করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় সচেতন মহলের বক্তব্য, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে শুধু কর্মস্থল পরিবর্তন করলেই অভিযোগের নিষ্পত্তি হয় না।

তাদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রয়োজন। আবার অভিযোগগুলো মিথ্যা হলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার হওয়া জরুরি।কারণ তদন্ত না হলে একদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন অভিযোগের মধ্যে থাকবেন, অন্যদিকে অভিযোগকারীরাও তাদের দাবির সত্যতা প্রমাণের সুযোগ পাবেন না।
তদন্তের আওতায় যেসব বিষয় আনার দাবিস্থানীয়দের পক্ষ থেকে আবুল কালাম আজাদের দায়িত্ব পালনকালীন বিভিন্ন কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

 

এর মধ্যে রয়েছে—জীবিত ব্যক্তিকে ‘মৃত’ দেখিয়ে মৃত্যু নিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগ;জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের নথিপত্র ও আবেদন যাচাই;ট্রেড লাইসেন্স প্রদান নিয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না;
বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ;রিষদে নাগরিকদের সঙ্গে আচরণ ও অভিযোগ নিষ্পত্তির রেকর্ড; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির প্রকৃত ঘটনা;তার নামে ও বেনামে থাকা সম্পদের বৈধতা ও অর্থের উৎস;দায়িত্ব পালনকালে কোনো আর্থিক অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছিল কি না;ঢাকা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বিরোধ বা ষড়যন্ত্রের অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা;
তার বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো লিখিত অভিযোগ বা প্রশাসনিক তদন্ত হয়েছিল কি না।

See also  টাঙ্গাইলের মধুপুরে অবৈধ চায়না ও কারেন্ট জাল ধ্বংস।

 

নিরপেক্ষ তদন্ত চায়  স্থানীয় সচেতন মহলের বক্তব্য, প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতে হলে যেকোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।
তারা বলেন, অভিযোগ প্রমাণের আগে কাউকে দোষী বলা যেমন উচিত নয়, তেমনি গুরুতর অভিযোগকে তদন্ত ছাড়াই উপেক্ষা করাও উচিত নয়। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্দোষ হলে তার অবস্থানও পরিষ্কার হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পথ তৈরি হবে।
এ কারণে স্থানীয়রা স্থানীয় সরকার বিভাগ, ঢাকা জেলা প্রশাসন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে প্রয়োজন অনুযায়ী তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

তাদের ভাষ্য, একজন সরকারি কর্মকর্তা বা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যেই হোন না কেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত বা প্রশাসনিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযুক্তের বক্তব্যএ বিষয়ে আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য, ব্যাখ্যা বা কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী, উল্লিখিত বিষয়গুলো অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত; নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই এসব অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব।

 

আরও পড়ুন

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

BD IT HOST