কলমে: মোঃ নাজির হোসেন
যুগের পর যুগ দাঁড়িয়ে আছো,
সময়ের নিঃশব্দ প্রহরী হয়ে—
ইটের গায়ে লিখে রেখেছ
বাংলার গৌরব, ইতিহাস বয়ে।
সোনাবাড়িয়ার আকাশজোড়া
তোমার শিখর ছুঁয়েছে কাল,
চারশো পঞ্চাশ বছরের স্মৃতি
আজও করে অবিনাশী জ্বলজ্বল।
শ্যামসুন্দরের নবরত্ন তুমি,
ঐতিহ্যের দীপ্ত প্রতীক,
প্রতিটি কারুকাজ যেন বলে—
“বাংলা আমার, বাংলাই ঠিক।”
ঢাকার ব্যস্ত নগর ছেড়ে
মানুষ আসে শত পথ পেরিয়ে,
ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখার তৃষ্ণা
হৃদয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে।
কেউ বলে বৌদ্ধ ভিক্ষুর হাতে
জন্মেছিল তোমার প্রথম রূপ,
কেউ বলে জমিদারের স্বপ্নে
উঠেছিলে আকাশ ছুঁয়ে অনুপম রূপ।
সত্যের সন্ধান ইতিহাস করুক,
তর্ক থাকুক গবেষণার তরে;
তুমি তো আজও বাংলার গর্ব,
অটল দাঁড়িয়ে শত ঝড়ের পরে।
ধ্বংসস্তূপে হারানো দিনের
অসংখ্য অশ্রু, অগণিত গান,
নয়টি মন্দিরের স্মৃতিধারা
আজও ভাসে নিঃশব্দ প্রাণ।
জনশ্রুতির পুণ্য আলোয়
এসেছিলেন পরমহংস একদিন,
ভক্তির সুরে আজও বাজে
সেই স্মৃতির অমলিন বীণ।
এ শুধু কোনো মন্দির নয়,
সভ্যতার অক্ষয় দলিল;
ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে তুমি
বাংলার আত্মার নির্মল শীল।
তোমার ইটের প্রতিটি ভাঁজে
পূর্বপুরুষের স্বপ্ন ঘুমায়,
তোমার ছায়ায় দাঁড়িয়ে মানুষ
নিজের শেকড় নতুন করে চুমায়।
এসো সবাই হাত বাড়াই,
ঐতিহ্যের রাখি মান;
সংরক্ষণে হোক প্রতিজ্ঞা—
এ আমাদের জাতীয় সম্মান।
যতদিন বাংলার মাটির গন্ধ,
যতদিন নদীর কলতান,
ততদিন অমর হয়ে থাকবে
সোনাবাড়ীয়া মঠের জয়গান।
ইতিহাস কাঁদে না— কথা বলে,
যদি থাকে শ্রদ্ধার মন;
সোনাবাড়ীয়া মঠ শেখায় আজও—
ঐতিহ্যই জাতির চিরজীবন।