1. newsofbangla247@gamil.com : Newsofbanglatv : newsofbanglatv newsofbanglatv
লোনা পানির আগ্রাসনে বিপন্ন হতে চলছে উপকূলবাসী - News Of Bangla TV লোনা পানির আগ্রাসনে বিপন্ন হতে চলছে উপকূলবাসী - News Of Bangla TV
September 18, 2026, 12:35 am

লোনা পানির আগ্রাসনে বিপন্ন হতে চলছে উপকূলবাসী

এফ এম এ রাজ্জাক
  • Update Time : Wednesday, September 16, 2026
  • 31 Time View

লোনা পানির আগ্রাসনে বিপন্ন হতে চলছে উপকূলবাসী।
‎পাইকগাছা কয়রা এলাকায় কৃষি সুপেয় পানি, স্বাস্থ্য,  জীব বৈচিত্র্য ও সরকারি বেসরকারি অবকাঠামো হুমকির মুখে

‎এফ এম এ রাজ্জাক, পাইকগাছা  (খুলনা) প্রতিনিধি :

‎উপকূলীয় খুলনার পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় লবণাক্ত পানির আগ্রাসন ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। নদী-খাল ও জলাশয়ে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, জোয়ারের নোনা পানি এবং বিভিন্ন স্থানে ওয়াপদা বাঁধ কেটে, ছিদ্র করে কিংবা গেট ও পাইপের মাধ্যমে মৎস্যঘেরে নোনা পানি প্রবেশ করানোর অভিযোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে উপকূলের জনজীবন। লবণাক্ত পানির প্রভাবে ফসলি জমি, মিঠা পানির উৎস, বসতভিটা, গাছপালা, প্রাণিসম্পদ, সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎উপকূলীয় মানুষের কাছে লবণাক্ত পানি এখন আর শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়; এটি খাদ্য উৎপাদন, সুপেয় পানি, জনস্বাস্থ্য, জীবিকা ও বসবাসের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে মিঠা পানির উৎস সংকুচিত হয়ে লবণাক্ততা বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

‎ফসলি জমিতে লবণের থাবা

‎লবণাক্ত পানির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে কৃষিজমিতে। জমিতে দীর্ঘদিন নোনা পানি প্রবেশ করলে মাটির লবণাক্ততা বাড়ে এবং স্বাভাবিক ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়। ধান, শাকসবজি, ফলদ ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

‎কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানি প্রবেশের ফলে শুধু একটি মৌসুমের ফসল নষ্ট হয় না; মাটির গুণাগুণেও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন ঘটতে পারে। এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, আয় কমে এবং কৃষিনির্ভর পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তা ও জীবিকায় চাপ তৈরি হয়।

‎সরকারি পরিবেশবিষয়ক নথিতেও উপকূলীয় কৃষিজমিতে অনিয়ন্ত্রিত লবণাক্ত পানি ব্যবহার, দুর্বল পোল্ডার ব্যবস্থাপনা এবং লবণাক্ত পানি-নির্ভর চিংড়ি চাষের বিস্তারকে লবণাক্ততা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

‎মিঠা পানির সংকট আরও তীব্র

‎লবণাক্ততার দ্বিতীয় বড় আঘাত পড়ছে নিরাপদ পানির ওপর। পুকুর, খাল, নদী ও ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে গেলে খাবার ও দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য নিরাপদ পানির উৎস সংকুচিত হয়ে পড়ে।

‎পাইকগাছা ও কয়রার বহু মানুষকে মিঠা পানির জন্য দূরের উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। শুষ্ক মৌসুমে এ সংকট আরও প্রকট হয়। ফলে পানি সংগ্রহে সময় ও অর্থ ব্যয় বাড়ে এবং দরিদ্র পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ে।

‎লবণাক্ততার কারণে পানির সংকট শুধু পান করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। রান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া, গৃহস্থালি কাজ এবং গবাদিপশুর জন্যও নিরাপদ পানি সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ে।

‎নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি

‎লবণাক্ত পানির প্রভাব নারী ও শিশুদের ওপরও বিশেষভাবে পড়ছে। উপকূলীয় এলাকায় নিরাপদ পানির সংকট দেখা দিলে পরিবারের পানি সংগ্রহের দায়িত্ব অনেক সময় নারীদের ওপর পড়ে। দূরবর্তী স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে তাদের সময়, শ্রম ও নিরাপত্তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

‎লবণাক্ত পানি ব্যবহারের সঙ্গে নারীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের গবেষণায় উপকূলীয় বাংলাদেশে ভূগর্ভস্থ পানির লবণাক্ততা এবং নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যগত ফলাফলের সম্পর্ক পরীক্ষা করা হয়েছে।

‎বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক গবেষণাতেও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত লবণাক্ততার সময়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিশেষ করে মৃত্যুঝুঁকি ও খর্বাকৃতির সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এসব গবেষণা বৃহত্তর উপকূলীয় অঞ্চলের তথ্যভিত্তিক; নির্দিষ্টভাবে পাইকগাছা পৌর এলাকার প্রতিটি পরিবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি বোঝাতে স্থানীয় স্বাস্থ্য জরিপ প্রয়োজন।

‎বসতভিটা ও অবকাঠামোতেও ক্ষতির আশঙ্কা

‎নোনা পানি দীর্ঘদিন বসতভিটার আশপাশে জমে থাকলে মাটি, ঘরবাড়ি, রাস্তা, কালভার্ট, ড্রেনসহ বিভিন্ন স্থাপনার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। লবণাক্ত পরিবেশে বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ও ধাতব অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।

‎পাইকগাছা পৌর এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, নোনা পানি প্রবেশের কারণে ঘরবাড়ি ও বসতভিটার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অবকাঠামোও ক্ষতির মুখে পড়ছে।

‎লবণাক্ততার সঙ্গে অবকাঠামোগত ক্ষতির সম্পর্ক নিয়ে গবেষণাতেও উদ্বেগ রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণায় উপকূলীয় বাংলাদেশে ভূগর্ভস্থ পানির লবণাক্ততার সঙ্গে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

‎গাছপালা ও জীববৈচিত্র্য হুমকিতে

‎মিঠা পানির পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল গাছপালা, মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য পানির লবণাক্ততা বড় পরিবর্তন সৃষ্টি করতে পারে। ফলে কোনো কোনো প্রজাতির আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্যও পরিবর্তিত হতে পারে।

‎পাইকগাছা-কয়রার নদী-খাল, বিল ও জলাভূমি স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। এসব জলাশয়ে লবণাক্ততার মাত্রা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তন হলে তার প্রভাব মিঠা পানির মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর ওপর পড়তে পারে।

‎জাতীয় চিংড়ি নীতিতেও পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নীতিমালায় টেকসই ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা ও চিংড়ি উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

‎বাঁধ কেটে নোনা পানি প্রবেশের অভিযোগ

‎পাইকগাছা পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ওয়াপদা বাঁধ কেটে, ছিদ্র করে কিংবা পাইপ স্থাপন করে মৎস্যঘেরে নোনা পানি তোলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, শিববাটি ও বয়রা এলাকার ওয়াপদা গেটসহ বিভিন্ন স্থানে নোনা পানি প্রবেশ করানোর কারণে আশপাশের ফসলি জমি ও বসতভিটাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

‎অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত মৎস্যঘের পরিচালনার জন্য নোনা পানি প্রবেশ করানো হলেও এর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে ঘেরের সীমানা ছাড়িয়ে আশপাশের জমি, পুকুর ও বসতভিটায় পড়তে পারে।

‎তবে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে অবৈধভাবে বাঁধ কাটা বা সরকারি গেট ব্যবহার করে নোনা পানি তোলার অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত ও নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

‎হাইকোর্টের রিটের প্রসঙ্গ তুলে ব্যবস্থা চেয়েছেন এফ.এম.এ. রাজ্জাক

‎নোনা পানি প্রবেশ বন্ধের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার রয়েছেন মানবাধিকার উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক এডভোকেট এফ.এম.এ. রাজ্জাক।

‎তার দেওয়া অবগতি পত্রে জাতীয় চিংড়ি নীতিমালা এবং হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং-৫৭/২০১০-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরে পাইকগাছা পৌর এলাকায় নোনা পানি উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

‎অবগতি পত্রে তিনি অভিযোগ করেন, পৌর এলাকার শিববাটি ও বয়রা ওয়াপদা গেট এবং বিভিন্ন স্থানে বাঁধ কেটে বা ছিদ্র করে কিছু মৎস্যঘের ব্যবসায়ী নোনা পানি উত্তোলন করছেন। এর ফলে মাটি ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য, ঘরবাড়ি, গাছপালা, প্রাণিসম্পদ ও মিঠা পানির উৎস ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

‎তবে রিট পিটিশন নং-৫৭/২০১০-এর মূল আদেশের নির্দিষ্ট ভাষা ও বর্তমান কার্যকারিতা যাচাই করে প্রকাশের সময় উদ্ধৃত করা প্রয়োজন। কারণ এ প্রতিবেদনে রাজ্জাকের নথিতে উল্লিখিত বক্তব্যকে তার অভিযোগ ও দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে।

‎৮ দফা দাবিতে নোনা পানি বন্ধের বিষয়টি অগ্রাধিকার

‎পাইকগাছা পৌর এলাকার নোনা পানি প্রবেশ বন্ধসহ নাগরিক অধিকার ও পরিবেশ সুরক্ষার দাবিতে ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ৮ দফা স্মারকলিপি দেন মানবাধিকার উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক এডভোকেট এফ.এম.এ. রাজ্জাক।

‎স্মারকলিপির প্রথম দাবিতেই বলা হয়, পৌরসভার অভ্যন্তরে নোনা পানি ওঠানামা বন্ধ করতে হবে এবং বাঁধ কেটে বা সরকারি গেট ব্যবহার করে নোনা পানি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

‎এ ছাড়া পৌরসভার সরবরাহকৃত পানির প্রবাহ বৃদ্ধি ও পানি স্বাস্থ্যসম্মত করা, পানির মূল্য কমানো, পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ, বিদ্যমান ড্রেন পরিষ্কার এবং পৌর শহর রক্ষায় শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হয়।

‎অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার ও পাকাকরণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, পাবলিক টয়লেট ও ডাস্টবিন নির্মাণ, গরুর হাট নির্মাণ, স্ট্রিট লাইট বৃদ্ধি ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং মধুমিতা পার্ক অবৈধ দখলমুক্ত করে সংরক্ষণ।

‎আবারও অবগতি পত্র, সাত দিনের সময়

‎৮ দফা দাবির পর নোনা পানি প্রবেশ বন্ধের বিষয়টি সামনে রেখে ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবারও অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পত্র দেন এডভোকেট এফ.এম.এ. রাজ্জাক।

‎পত্রে তিনি নোনা পানি উত্তোলন বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পত্র প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়।

‎অন্যথায় পৌরবাসীর স্বার্থে যথাযথ আইন ও আদালতের আশ্রয় নেওয়ার কথাও পত্রে উল্লেখ করেন তিনি।

‎অবগতি পত্রের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌর প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়। পাশাপাশি কৃষি, পানি সম্পদ ও বন-পরিবেশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য, খুলনা জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

‎লবণাক্ততা ঠেকাতে কী করতে হবে

‎উপকূলের লবণাক্ততা মোকাবিলায় স্থায়ী সমাধানের জন্য বাঁধ কেটে বা অবৈধভাবে পাইপ বসিয়ে নোনা পানি প্রবেশের সুযোগ বন্ধ করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ও স্লুইসগেটগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

‎একই সঙ্গে ফসলি জমি ও বসতি এলাকায় নোনা পানি প্রবেশ ঠেকাতে পোল্ডার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, মিঠা পানির জলাধার সংরক্ষণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, নিরাপদ পানি সরবরাহ বাড়ানো এবং লবণসহিষ্ণু ফসলের প্রসার ঘটানো প্রয়োজন।

‎সরকারি পরিবেশবিষয়ক নথিতেও লবণাক্ততা মোকাবিলায় লবণসহিষ্ণু ফসল, মিঠা পানির মজুত বৃদ্ধি, পোল্ডার ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং লবণাক্ত পানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

‎পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ও পোল্ডার পুনর্বাসনও গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়নের প্রকল্পগুলোর অন্যতম লক্ষ্যই হলো জোয়ার-জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ত পানি প্রবেশ কমিয়ে কৃষি ও মানুষের জীবিকা সুরক্ষা করা।

‎নোনা পানি নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি

‎পাইকগাছা ও কয়রায় লবণাক্ততার প্রভাব এখন কৃষিজমি থেকে সুপেয় পানি, বসতভিটা থেকে অবকাঠামো, নারী-শিশুর স্বাস্থ্য থেকে জীববৈচিত্র্য—প্রায় সব ক্ষেত্রেই অনুভূত হচ্ছে।

‎মানবাধিকার উন্নয়ন কেন্দ্রের ৮ দফা দাবি এবং পরবর্তী অবগতি পত্রে নোনা পানি প্রবেশ বন্ধ, নিরাপদ পানি নিশ্চিত, শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের যে বিষয়গুলো সামনে আনা হয়েছে, তা উপকূলীয় জনজীবনের দীর্ঘদিনের সংকটেরই প্রতিফলন।

‎এখন প্রয়োজন অভিযোগগুলো সরেজমিনে যাচাই, বাঁধ ও গেটগুলোর বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা, নোনা পানি প্রবেশের উৎস চিহ্নিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি ও বসতভিটার বাস্তব চিত্র নিরূপণ। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি, নিরাপদ পানির সংকট এবং কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

‎উপকূলবাসীর আশঙ্কা—নোনা পানির আগ্রাসন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগামী দিনে সংকট শুধু কৃষি বা পানিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা মানুষের বসতি, স্বাস্থ্য, জীবিকা ও পরিবেশের ওপর আরও বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

See also  হিফজ ও নুরানি বিভাগের জন্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

BD IT HOST