সাতক্ষীরার কলেজ ছাত্র জাকারিয়া হত্যাকাণ্ড ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের
আজহারুল ইসলাম সাদী:
সাতক্ষীরা বহুল আলোচিত কিশোর গ্যাং কর্তৃক প্রতিবাদী তরুণ কলেজ ছাত্র জাকারিয়া খান (১৯) হত্যা ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের হয়েছে।
২ অক্টোবর (শুক্রবার) রাতে হত্যা ঘটনায় নিহতের ভাই মো. শাহারিয়া খান বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন, (মামলা নং-০৫/৪৭৪)।
আসামিরা হলেন- মো: নাহিদ হাসান (২৫), মো: মোহিত হাসান রনি (২০), মো: আরিফুল (২৮), ছোট ময়না (২৭) ও বড় খোকা, মো: জুয়েল (২৪), মো: সাগর (২৩), মো: সামি (২৪), মো: নাঈম (২২), মো: রাশিদুর জামান ওরফে রাশেদ (৩০), মো: হুজাইফা (২০) এবং মো: শরিফুল ইসলাম ওরফে শরিফ (২৮)। সর্ব সাং ইটাগাছা, পশ্চিমপাড়া ও (মানিকতলা) সাতক্ষীর।
মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে কামালনগর এলাকার রবিউল ইসলামের চায়ের দোকানে চা খাওয়া ও আড্ডা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন স্থানীয় দুষ্কৃতকারী অশালীন ভাষায় আচরণ শুরু করে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে প্রতিবেশী বাপ্পী হাসান (১৭)-এর ওপর আসামিরা ইট ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।
এমতাবস্থায় বাপ্পীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে মো. জাকারিয়া খানের ওপরও আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ধারালো ছুরি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় জাকারিয়ার বুকের বাম পাশে ধারালো ছুরির মারাত্মক আঘাত লাগে এবং সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাকারিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার কর্মকর্তারা জানান, এজাহারের ভিত্তিতে পেনাল কোডের ৩৪২/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩০২/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করছেন এসআই (নিঃ) মো. আলমগীর হোসেন।