1. newsofbangla247@gamil.com : Newsofbanglatv : newsofbanglatv newsofbanglatv
কালীগঞ্জে বাদির নারাজির প্রেক্ষিতে ধর্ষণ মামলায় তৃতীয় দফায় তদন্তে পুলিশ - News Of Bangla TV কালীগঞ্জে বাদির নারাজির প্রেক্ষিতে ধর্ষণ মামলায় তৃতীয় দফায় তদন্তে পুলিশ - News Of Bangla TV
July 29, 2026, 5:32 pm

কালীগঞ্জে বাদির নারাজির প্রেক্ষিতে ধর্ষণ মামলায় তৃতীয় দফায় তদন্তে পুলিশ

হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
  • Update Time : Tuesday, July 14, 2026
  • 12 Time View

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে বাদির নারাজির প্রেক্ষিতে ধর্ষণ মামলায় তৃতীয় দফায় তদন্তে পুলিশ

কথায় আছে না, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে তেমনি দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর দায়ের করা মিথ্যা,ধর্ষণ প্রচেষ্টা মামলা থেকে রেহাই পেতে নিজের স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে দিয়ে পাল্টা ভাই, ভাইবৌ ও প্রেমিক সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা,অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা। তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় থানা পুলিশ, পিবিআইয়ের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদির ২য় নারাজির প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে তৃতীয় দফায় তদন্তের গ্যাড়াকলে মাঠে নেমেছে পুলিশ। আলোচিত ও চঞ্চল্যকর ধর্ষণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা জুড়ে এখন টক অফ দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে। সাতক্ষীরা নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারকের নির্দেশে গত রবিবার (১২ জুলাই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেলের) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা আমিনুর রহমান তদন্তে মাঠে নামলেও এজাহারে বর্ণিত সাক্ষীরা হাজির না হওয়া এবং মামলার বর্ণিত ঘটনাস্থলে সত্যতা না মেলায় বিষয়টি সচেতন মহলের আলোচনায় আসে। অনুসন্ধান,ও মামলা সূত্রে জানা যায় কালীগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের ছনকা গ্রামের শেখ আব্দুল হাদীর পুত্র সাবেক উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের পশু চিকিৎসক শেখ আমিরুল ইসলামের সঙ্গে তার আপন ছোট চাচাতো ভাই একই গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের পুত্র যমুনা ক্লিনিক মালিক শেখ শরিফুল ইসলাম ও মামলার সাক্ষীদের সঙ্গে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি কাল ধরে বিরোধ চলে আসছে। উক্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে শরিফুল ইসলামের স্ত্রী আমসা খাতুনকে (ছদ্মনাম) দিয়ে ভাসুর আমিরুলের বিরুদ্ধে গত ১৬/৬/২১ তারিখে সাতক্ষীরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১ টি পিটিশন মামলা দায়ের করে। মামলা নং সিআরপি ২১৮/২১ (কালি:)। উক্ত মামলার তদন্তে সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ-পরিদর্শক মহাসিন তরফদার সত্যতা পাওয়ায় বিজ্ঞ আদালতে আমিরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে উক্ত মামলা থেকে রেহাই পেতে তার কন্যা স্কুলছাত্রী সামজিরা খাতুন কে (ছদ্মনাম) বাদী করে গত ১৩/১২/২৪ ইং তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধনী ২০০৩ এর ৯(১)/৩০ ধারায় আদালতের নির্দেশে থানায় একটি ধর্ষণ ও অপহরণ মামলা দায়ের হয়। মামলা নং-৭। মামলায় আসামি করা হয় সাবেক সেনা কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহর পুত্র পাসপোর্ট অফিসে চাকরিরত প্রেমিক ইব্রাহিম খলিল, চাচা শেখ শরিফুল ইসলাম,চাচি স্ত্রী আমসা খাতুন ওরফে বিথী (ছদ্মনাম) ও বন্ধু চরদহ গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র শাহাদাত হোসেন, ছনকা গ্রামের জাফর ইকবালের পুত্র হাবিবুল্লাহ এবং সাতক্ষীরা সদর থানার বকচরা গ্রামের বিবাহ রেজিস্টার হাসাইন আলী। মামলায় উল্লেখ করা হয় ১৬/৬/২৪ ইং তারিখে বেলা ৩ টার দিকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় কালিগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের পাশে শিক্ষক নিত্যানন্দের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার উপর থেকে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক একটি প্রাইভেট কারে তুলে নিয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার বকচরা গ্রামের বিবাহ রেজিস্টার হাসাইন আলীর বাড়িতে ফেলে জোরপূর্বক কাবিননামায় সই করিয়ে নেয়। পরে প্রেমিক ইব্রাহিম খলিল কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে বাসায় এনে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক আব্দুর রহমান দীর্ঘ তদন্ত শেষে সত্যতা না মেলায় গত ২৮/৮/২৫ ইং তারিখে ১১ নং চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। এ প্রেক্ষিতে বাদী ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২১/১/২৬ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালতে থানার দেওয়া চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দিলে বিজ্ঞ শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের (জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক আবু বক্কর সিদ্দিক গত ১২/৩/২৬ ইং তারিখে পুনরায় মামলাটি তদন্ত করার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সাতক্ষীরাকে নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতক্ষীরা পিবিআইয়ের উপ পরিদর্শক মাসুদুর রহমান পুনারায় সরেজমিনে দীর্ঘ তদন্তে মামলায় বর্ণিত ঘটনার স্থান এবং সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে পারিবারিক দ্বন্দ্ব উঠে আসা এবং সত্যতা না মেলায় আবারো গত ২৩/৪/২৬ ইং বিজ্ঞ আদালতে ১১ (ক) নং সম্পূরক চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এবারও বাদী ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৭/৫/২৬ ইং তারিখে আবারো বিজ্ঞ আদালতে নারাজিতে বাদী জানান অপহরণ করে প্রেমিক ইব্রাহিম জোরপূর্বক গাড়িতে উঠালে আসামি শরিফুল ও তার স্ত্রী আমসাকে(ছদ্মনাম) দেখি। এরপর আসামিরা আমাকে রওশন আলীর বাড়িতে নিয়ে দু,টি নীল কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। পরে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে আনে। বিজ্ঞ আদালত আমলে নিয়ে পুনরায় অধিকতর তদন্তের জন্য ১৫ কার্য দিবসের ভিতরে কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। এদিকে ছোট ভাইবৌর দায়ের করা মামলাটি মহামান্য হাইকোর্টে ৬ মাসের স্থিতি অবস্থায় রেখে নিজের মেয়েকে দিয়ে মিথ্যা ধর্ষণ মামলার তদন্তের একাধিক চূড়ান্ত প্রতিবেদন বদলিয়ে অভিযোগ আকারে নিতে দৌড়ঝাপে ব্যস্ত পশু চিকিৎসক আমিরুল ইসলাম। তবে মুল মামলার এজাহারের বক্তব্য এবং পৃথক দু,অটি নারাজির বক্তব্য পরস্পর বিরোধী হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

 

See also  ক্রোক হচ্ছে অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পদ

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

BD IT HOST