1. newsofbangla247@gamil.com : Newsofbanglatv : newsofbanglatv newsofbanglatv
একই প্রকল্পে দুই দফা বরাদ্দ কোটি টাকা হরিলুটের অভিযোগ - News Of Bangla TV একই প্রকল্পে দুই দফা বরাদ্দ কোটি টাকা হরিলুটের অভিযোগ - News Of Bangla TV
September 12, 2026, 3:19 pm

একই প্রকল্পে দুই দফা বরাদ্দ কোটি টাকা হরিলুটের অভিযোগ

বগুড়া প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : Monday, July 27, 2026
  • 92 Time View

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একই প্রকল্পের নামে মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে দুই দফায় মোট ১ কোটি টাকা সরকারি বরাদ্দ এনে অনিয়ম ও অর্থ হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করেই একই প্রকল্প পুনরায় দেখিয়ে বরাদ্দ গ্রহণের অভিযোগে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

একই প্রকল্পে দুই দফা বরাদ্দ! আদমদীঘিতে ১ কোটি টাকা হরিলুটের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা শাখা-২ এর যুগ্মসচিব আবু রাফা মোহাম্মদ আরিফ স্বাক্ষরিত (স্মারক নং-৪৬.০০.০০০০.০৪৫.২০.০০৩.২৫-৪২৩) প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির “উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা” থোক বরাদ্দের ৭৭০ কোটি টাকা থেকে আদমদীঘি উপজেলার ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছিল—উপজেলা পরিষদ থেকে কৃষি অফিস পর্যন্ত আরসিসি রাস্তা নির্মাণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের রাস্তা মেরামত, উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সংস্কার, যমুনা ও রূপসা আবাসিক ভবনের মেরামত ও সংস্কার।

 

এরপর ২০২৬ সালের ১০ মে একই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত (স্মারক নং-৪৬.০০.০০০০.০০০.০৪৫.২০.০৩৬৯.২৬-৭৩৬) আরেকটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় আবারও প্রায় একই ধরনের প্রকল্পের জন্য আরও ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

 

দ্বিতীয় প্রজ্ঞাপনে উপজেলা প্রশাসনিক ভবন (পুরাতন) মেরামত, নতুন প্রশাসনিক ভবনের সংলগ্ন রাস্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের প্রবেশপথ, উপজেলা কৃষি অফিসের সামনের রাস্তা এবং যমুনা ও রূপসা আবাসিক ভবন মেরামতের জন্য পুনরায় বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফলে মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে একই প্রকল্পের নামে মোট ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি এখন উপজেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

 

সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরের দৃশ্যমান অধিকাংশ উন্নয়ন কাজ, নতুন প্রশাসনিক ভবনের সজ্জ্বিতকরণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজার দায়িত্বকালেই সম্পন্ন হয়েছে। অথচ একই অর্থবছরে একই ধরনের প্রকল্পের জন্য পুনরায় বরাদ্দ গ্রহণের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

 

উভয় প্রজ্ঞাপন পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক ভবন ও রাস্তা প্রায় একই অবকাঠামোগত কাজের জন্য দুইবার বরাদ্দের উল্লেখ রয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মে একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পের জন্য একবারই বরাদ্দ হওয়ার কথা। কিন্তু মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে একই প্রকল্পের নামে পুনরায় ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ হওয়ায় সরকারি অর্থের অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

 

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, রূপসা আবাসিক ভবনের কোনো দৃশ্যমান সংস্কার কাজ হয়নি। ভবনের দেয়ালজুড়ে শেওলা, চারপাশে জরাজীর্ণ অবস্থা—দেখলে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত ভবন বলেই মনে হয়। ভবনের মাত্র কয়েকটি ফ্ল্যাটে বসবাসের চিহ্ন রয়েছে।

 

আরও নাজুক অবস্থায় রয়েছে যমুনা আবাসিক ভবন। ভবনের নিচতলার বারান্দায় বটগাছ ও বিভিন্ন আগাছা জন্মেছে। ছাদেও শেওলা ও পরজীবী গাছ দেখা গেছে। ভবনের পেছনের কাঠের জানালার পাল্লাগুলো খুলে পড়ে যাচ্ছে। চারটি ফ্ল্যাটের মধ্যে মাত্র একটি ফ্ল্যাটে একটি পরিবার বসবাস করছে বলে জানা গেছে। অথচ এই দুই ভবনের সংস্কারের জন্য দুইবার বরাদ্দ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে উপজেলা কৃষি অফিসের সামনের রাস্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে প্রবেশের রাস্তা এবং নতুন প্রশাসনিক ভবনের সংলগ্ন রাস্তা মেরামতের জন্যও দুই দফায় বরাদ্দ এলেও নতুন করে উল্লেখযোগ্য কোনো কাজের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, এসব কাজ আগের নির্বাহী কর্মকর্তাদের সময়েই সম্পন্ন হয়েছিল।

See also  দুই নেতার বিরুদ্ধে স্কুলের অর্থ আত্মসাৎ, পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে জনমনে প্রশ্ন

 

অন্যদিকে পুরাতন প্রশাসনিক ভবন সংস্কারের নামে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ওপর টিনের ছাউনি দিয়ে কয়েকটি কক্ষ নির্মাণের কাজ চলছে। বর্তমানে শুধু উপজেলা পরিষদের দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সীমানা প্রাচীর পুনর্নির্মাণের কাজ চলমান থাকলেও বরাদ্দকৃত প্রকল্প তালিকায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কোনো উল্লেখ নেই।

 

সচেতন মহলের অভিযোগ, বরাদ্দের অর্থ যদি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় না হয়ে থাকে কিংবা একই প্রকল্পের বিপরীতে দুইবার বিল উত্তোলন করা হয়ে থাকে, তাহলে তা গুরুতর আর্থিক অনিয়মের শামিল। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন উপেক্ষিত থাকলেও একই প্রকল্পের নামে বারবার বরাদ্দ এনে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম বলেন, দ্বিতীয়বারের জন্য নতুন প্রকল্প দাখিল করা হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয় ভুলক্রমে প্রথম প্রকল্পগুলোর জন্য পুনরায় বরাদ্দ দিয়েছে। উপজেলার উন্নয়নের স্বার্থে মাসিক সমন্বয় সভায় দুই প্রকল্পের বরাদ্দ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রেজুলেশন ও কাজের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া সকল প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।

একই প্রকল্পে দুই দফা বরাদ্দ কোটি টাকা হরিলুটের অভিযোগ

ফেজবুক 

আরও পড়ুন 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

BD IT HOST