অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে কালীগঞ্জ পলিটেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ
ভুয়া বিল ভাউচারে অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, কলেজ সামগ্রী নিজ গৃহস্থলী কাজে ব্যবহার, অর্থ লোপাট সহ নানাবিধ অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ করেছেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবিরের অপসারণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেলা ১২ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত কালিগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ২ কিলোমিটার দূরে কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের সামনের সড়ক ও কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেছেন। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির কারণে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে কালীগঞ্জ সরকারি পলিটেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনে রাস্তা পরিদক্ষন করে একপর্যায়ে কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করায় ঘন্টা ব্যাপী সড়কের যান চলাচল বন্ধ থাকে।
এর আগে গত বুধবার (২৪ জুন) কলেজের শিক্ষার্থীরা সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত স্মারকলিপি ও অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে শিক্ষার্থীরা জানান শিক্ষার্থীদের সামনে অশ্লীল আলোচনা ও অসোভন অঙ্গভঙ্গি করে থাকেন। একাদশ শ্রেণী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও তিনি সাতক্ষীরায় সবাই জামায়াত করে,যারা জামায়াত করে না তারা সবাই বেজন্মা বলে গালি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে ক্যাম্পাসে বসবাস করে কলেজের টাকায় গৃহস্থলী সামগ্রী ব্যবহার করা ছাড়াও ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে শিক্ষার্থী এবং কলেজের বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে গত কয়েক দিন ধরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরে তিনি বিপুল পরিমাণের অর্থ দিয়ে কিছু সাংবাদিক ভাড়া করে তার স্বপক্ষে সাফাই নিউজ করানোর জন্য দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা গেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর এবং শিক্ষার্থী শিক্ষকদের তোপের মুখে গত মঙ্গলবার রাতে কলেজ ক্যাম্পাসে তিনি গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজান। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় হাস্যরসে পরিণত হয়। এ সব বিষয়ে কালীগঞ্জ সরকারি পলিটেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবিরের নিকট জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান কতিপয় কয়েকজন শিক্ষক এবং অনিয়মিত কিছু ছাত্র তার বিরুদ্ধে নানান ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে আমাকে এবং কলেজকে বিতর্কিত করে চলেছে। দুর্নীতির বিষয়ে তিনি অস্বীকার করে কলেজের উন্নয়নমূলক অনেক কাজ তিনি করেছেন বলে জানান। বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থী তানজিল, মোখলেসুর, সাজ্জাদ, ফয়সাল সহ বহু শিক্ষার্থী। বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনেক শিক্ষক শিক্ষিকা একত্বা ঘোষণা করতে দেখা গেছে।
অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে কালীগঞ্জ পলিটেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ