রামু’র খুনিয়া পালংয়ে ডিএসকের উদ্যোগে জয়েন্ট রিভিউ মিটিং অনুষ্ঠিত
কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নে শিশু সুরক্ষা বিষয়ক জয়েন্ট রিভিউ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিএসকে (DSK) পরিচালিত DSK-KNH-BMZ প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় প্রকল্পের অগ্রগতি, অর্জন, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বুধবার (১ জুলাই) সকাল ১১টায় খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক কোম্পানী। তিনি বলেন, শিশু সুরক্ষা শুধু একটি প্রকল্পের বিষয় নয়; এটি সমাজের প্রতিটি মানুষের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। শিশুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি ডিএসকের উদ্যোগের প্রশংসা করে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভায় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, স্থানীয় সাংবাদিক, শিশু সুরক্ষা কমিটির সদস্য, ফেডারেশন ও ইয়ুথ গ্রুপের প্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, গ্রাম পুলিশ এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
প্রকল্পের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন ডিএসকের টেকনিক্যাল ম্যানেজার (শিশু সুরক্ষা) নাছিমা শাহীন। তিনি জানান, কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিশু সুরক্ষা কমিটি সক্রিয়করণ, স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা উন্নয়ন, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মতো কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শতভাগ জন্মনিবন্ধন নিশ্চিতকরণ, মাদকসংক্রান্ত ঝুঁকি ও সামাজিক সচেতনতার ঘাটতিকে শিশু সুরক্ষার প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন। এসব সমস্যা মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা, গণমাধ্যম ও কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে ঈগল আত্মসহায়ক দলের সদস্য তুপিনা ডিএসকের সহায়তায় আয়বর্ধক কার্যক্রম (IGA) বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও মূলধন সহায়তা পেয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম হওয়ায় পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি সন্তানদের শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা সহজ হয়েছে।
খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবু রায়হান মো. নসুরুল্লাহ বলেন, ডিএসকের শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা বিষয়ে মানুষের সচেতনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।
শেষে চেয়ারম্যান আব্দুল হক কোম্পানী শিশু সুরক্ষায় ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের নিয়মিত পর্যালোচনা সভা স্থানীয় পর্যায়ে শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, অংশগ্রহণমূলক ও টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।