বিএনপি এবং বহিষ্কৃত নেতাদের বিরুদ্ধে ভূমি দখলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
কালীগঞ্জে বিএনপি এবং বহিষ্কৃত নেতাদের বিরুদ্ধে ভূমি দখলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ঋষি পল্লীতে থানাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জগদীশ,রেজাউল ঢালী, শাহ আলম গংদের রেকর্ডীয় জমি সন্ত্রাসী স্টাইলে ঘেরা বেড়া কেটে জোরপূর্বক দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং বহিষ্কৃত বা সাবেক নেতারা একে অপরকে ঘায়েল করতে পরস্পর বিরোধী কুৎসা ও অপপ্রচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চাচাই গ্রামের ঋষিপাড়ায় মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকাল ৭ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির কৃষক দলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান এবং বিএনপি’র স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা কাজী সোহেল ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন পোর্টালে ছবি নাম প্রকাশ করিয়ে একে অপরকে ঘায়েল করার চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে থানা ছাত্রদলের কতিপয় নেতাকর্মীদের ঘটনাস্থলে দেখা যাওয়ায় নানান বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘটনার পর থেকে একে অপরকে নিয়ে ভুক্ত ভোগীদের দিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট স্পর্শকাতর সংখ্যালঘু নির্যাতনের ভিডিও তৈরি করে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ও পত্র-পত্রিকায় প্রকাশের মাধ্যমে বহিষ্কারের জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া সহ-কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের পায়তারা চালাচ্ছে একটি গোষ্ঠী। ঘটনার পর প্রথমে একটি গোষ্ঠী থানা কৃষক দলের আহবায়ক রোকনুজ্জামানের নেতৃত্বে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও জমি দখলের মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করলেও পরবর্তীতে তারা তাদের বক্তব্য প্রত্যাহার করে রোকনুজ্জামান ছিল না বলে স্বীকার করেন। গ্রামের মৃত বিষ্ণুপদ দাসের পুত্র জগবন্ধু দাশ গংয়ের সঙ্গে ক্রয় কৃত জমি নিয়ে পার্শ্ববর্তী পারুলগাছা গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর পুত্র আব্দুর রশিদ ঢালী, রাজ্জাক ঢালী, রেজাউল ঢালীর বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে গত সপ্তাহে থানার উপ পরিদর্শক আনিসুর রহমান জমির কাগজপত্র ও মাপ জরিপ করে ঘেরা বেড়া দিয়ে দখল বুঝিয়ে দেয়। এরমধ্যে মৃত রুস্তম আলীর পুত্রদের মধ্যে মতবিরোধকে কেন্দ্র করে রেজাউল ঢালী গংরা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে বিএনপি নেতা রোকনুজ্জামানের নাম ভাঙিয়ে দখল করা ও মারপিটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরস্পর বিরোধী অভিযোগ পাওয়া যায়। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৩ আসনে (কালিগঞ্জ আশাশুনি) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলহাজ্ব কাজী আলাউদ্দিনকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেয়। অপরদিকে কেন্দ্রীয় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ডাঃ শহিদুল আলমকে মনোনয়ন না দেওয়ায় ফুটবল প্রতিক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় দুইজনে পরাজয় বরণ করেন। নির্বাচনে কালিগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা ডাঃ শহিদুল আলমের পক্ষে কাজ করায় তাদেরকে গণহারে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সেই থেকে বিএনপি’র মধ্যে আন্ত:কোন্দল চলে আসছে। যে কারণে একে অপরকে ঘায়েল করার জন্য চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ,ভূমি দখলের মত বিষয়গুলো দু,পক্ষই নজরদারিতে রাখে। কোন গ্রুপ কোথাও অপরাধ করলেও সেটাকে বড় করে দেখা হয় এবং বিশেষ করে বিএনপি নেতাকর্মীদের অপকর্মগুলো তুলে ধরা হয় যেন তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় এ লক্ষ্যে। একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীরা বিএনপির চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য বিভিন্ন সামাজিক, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা কোন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ায়ে পড়লে সাথে সাথে সেটাকে বড় করে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য পরস্পরের মধ্যে হিংসা বিদ্বেষের is প্রতিযোগিতা চলে আসছে।


