৪৭বছর বয়সে ইউপি মেম্বার ২৭বছর পর পাস করলেন এইচএসসি, একই বছরে পাস স্ত্রী-ছেলেও
রোববার (১ নভেম্বর) সকলের দিকে এমন খবরে এলাকায় আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। এরআগে, শনিবার (৩১ অক্টোবার) প্রকাশিত ফলাফলে মানবিক শাখায় জিপিএ ৪.৪৬ পেয়ে পাস করেন তিনি।
ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম (৪৭) মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া মেডিকেল মোড় এলাকার তোরাব আলীর ছেলে। তিনি মাওনা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার। তিনি ৩মেয়াদে ইউপি সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তার পরিবারে ৩ ছেলে ও স্ত্রী আছেন।
জানা যায়,গাজীপুর মহানগরের পূবাইল কারিগরি কলেজ থেকে মানবিক শাখায় জিপিএ ৪.৪৬ পেয়ে এবার এইচএসসি পাস করেন। এর আগে ১৯৯৯ সালে মাওনা বহুমুখি উচ্চবিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগে এসএসসি পাস করেছিলেন। এরপর লম্বা বিরতি পড়ে লেখা পড়ায়। পরে জনপ্রতিনিধি হয়ে জনসেবাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা জানান, চেষ্টা আর অধ্যবসায় থাকলে বহু দুর্গম অতিক্রম করা যায় তা আমিনুল ভাই সকলকেই বুঝিয়ে দিলেন। চলতি বছর তার স্ত্রীও এসএসসি পাস করেছেন। তার বড় ছেলে স্বাধীনও এ বছর এসএসসি পাস করে। এ বছর তাদের পরিবারের জন্য ভিন্ন আনন্দের। একই বছরে বাবা ছেলে ও মা পরীক্ষায় পাশ করেন। এটা দারুন খবর। তাদের আরও সাফল্য কামনা করি।
আনন্দ মাখা হাসি দিয়ে এইচএসসি পাস করা ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম ঢাকার ডাক কে বলেন,’ গতকাল দুপুরে আমার স্ত্রী নেট চেক দিয়ে আমাকে রেজাল্টের খবরটি জানান। ২৭বছর পর আবারও পড়াশুনা শেষে পরীক্ষায় পাসের আনন্দ আমাকে পুলকিত করলো। সবার কাছে দোয়া চাই। আরও পড়তে চাই।’
মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য (মেম্বার) শামীম মৃধা বলেন, ‘আমিনুল ভাই ৪৭ বছর বয়সে এবার এইচএসসি পাস করেছেন। এ খবর জানাজানি থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সবার মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। শিক্ষার কোনো বয়স নেই, এটা আমিনুল ভাই প্রমান করেছেন।’
ইউপি মেম্বার ২৭বছর পর পাস করলেন এইচএসসি, একই বছরে পাস স্ত্রী-ছেলেও
শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন,’ জীবনে শিক্ষার জন্য কোনোকিছুই প্রতিবন্ধক হতে পারে না যদি ইচ্ছেটা প্রকট থাকে। ইউপি সদস্যের পাসের বিষয়টি খুবই আনন্দের খবর। এই বয়সেও (৪৭) একজন মানুষ ধৈর্যধরে পড়াশুনা করে এইচএসসি পাস করেন এটা বয়স্ক অনেকের জন্য দারুণ অনুপ্রেরণা হবে।’
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ ভূঞা ঢাকার ডাক কে বলেন, ‘একজন ইউপি সদস্য হিসাবে শত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি পড়াশুনাতে মনোযোগী হয়েছেন। তার সফলতা অর্জন অবশ্যই আনন্দের খবর । তার ভবিষ্যত অর্জন ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি। তার পরিবারের জন্য শুভকামনা থাকলো।’