কালিগঞ্জে যৌতুক ও গায়ের রং নিয়ে খোঁটা: শাশুড়ির নির্যাতনে গৃহবধূ হাসপাতালে
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের পূর্ব নলতা গ্রামে যৌতুকের টাকা ও গায়ের রংয়ের খোঁটা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে রুবাইয়া খাতুন (২৬) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী শাশুড়ির বিরুদ্ধে। বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে এই নৃশংস নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঐ গৃহবধূকে উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব নলতা গ্রামের আব্দুল আলীমের স্ত্রী রুবাইয়া খাতুনের সাথে তার শাশুড়ি গুলজাহান বিবির (৬৫) (স্বামী মৃত জামাত আলী সরদার) সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। প্রায়ই রুবাইয়াকে বাপের বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা এনে দেওয়ার জন্য এবং গায়ের রং ‘কালো’ বলে খোঁটা ও কটূক্তি ,শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সন্ধ্যায় টাকা-পয়সা ও গায়ের রং নিয়ে আবারও রুবাইয়াকে খোঁটা দিতে শুরু করেন শাশুড়ি গুলজাহান বিবি। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে শাশুড়ি ক্ষিপ্ত হয়ে পুত্রবধূ রুবাইয়াকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। এ সময় রুবাইয়ার জা তাকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেও শাশুড়ির হিংস্রতার হাত থেকে উদ্ধার করতে পারেননি।
মারধরে রুবাইয়া মারাত্মক জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল দেন। খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে পুলিশ আসার আগেই স্থানীয় প্রতিবেশীদের সহায়তায় রক্তাক্ত ও আহত রুবাইয়া খাতুনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক সুমন জানান, জরুরী সেবা ৯৯৯-এর ফোনের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি । আহত গৃহবধূ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অফিসার্স ইনচার্জ) শহিদুল ইসলাম এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে উপজেলা জুড়ে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, মারপিট ও হত্যার মতো ঘটনা বেড়েই চলেছে। উপজেলা জুড়ে কর্মরত এনজিও গুলো নারী নির্যাতন বিষয়ক সভা সেমিনার ও কর্মশালা শুধু ফটোসেশন ও অতিথি নির্ভর হওয়ায় জনসচেতনতামূলক কোন কাজ হয় না বলে সচেতন মহলের দাবি। এই সমস্ত সেমিনার কর্মশালায় হাতে গোনা কথিত কিছু মোবাইল সাংবাদিক ছাড়া তেমন কোন কাউকে চোখে পড়তে দেখা যায়নি। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কোন তদারকি না থাকায় নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ বেড়েই চলেছে।
কালিগঞ্জে যৌতুক ও গায়ের রং নিয়ে খোঁটা: শাশুড়ির নির্যাতনে গৃহবধূ হাসপাতালে!