পার্বতীপুরে চুরি হওয়া ২টি মোটরসাইকেলসহ চোরচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার
মোঃ আশরাফুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পৃথক অভিযানে চোরাই দুটি মোটরসাইকেলসহ আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোরচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় একটি স্মার্টফোনও উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবী, উদ্ধার করা মোটরসাইকেল দুটি দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে চুরি করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ৯টা ১৫ মিনিট থেকে রাত ১১টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত পার্বতীপুর উপজেলার ১ নম্বর বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের পূর্ব কুঠিপাড়া ও বেলাইচণ্ডী বাজার এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আনোয়ার হোসেন, বিপিএম- সেবা-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল প্রথমে পূর্ব কুঠিপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় রাসেদুল রহমান ওরফে দুলাল (২৭) নামের এক ব্যক্তিকে চাবিসহ একটি কালো রঙের রেজিস্ট্রেশনবিহীন Suzuki Gixxer 150 সিসি মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
মোটরসাইকেলটির আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই ইউনিয়নের বেলাইচণ্ডী বাজার এলাকায় ইপিজেড-সংলগ্ন একটি বসতবাড়ীতে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। সেখান থেকে মোঃ সাইফুল ইসলাম (২৮) নামের আরেক ব্যক্তিকে চাবিসহ একটি লাল-কালো রঙের রেজিস্ট্রেশনবিহীন Bajaj Discover 100 সিসি মোটরসাইকেল ও একটি স্মার্টফোনসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটির আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা দুটি মোটরসাইকেলের আনুমানিক মোট মূল্য ৪ লাখ টাকা। এদিকে, প্রথম অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরও তিন ব্যক্তি পুলিশের অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। তারা হলেন মোঃ আব্দুল আলিম (৪২), লাল বাবু (৪৩) ও মোঃ ইউসুফ (২৭)। তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে পার্বতীপুর মডেল থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মোটরসাইকেল চুরির মতো অপরাধ প্রতিরোধে যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মালিকানা যাচাই এবং সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা জরুরী। এ ধরনের অভিযান চোরাই যানবাহন উদ্ধার এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।