বালু সংকটে সাতক্ষীরার ৭ উপজেলার সরকারি উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্থ
* সংকট সমাধানে চার এমপি,র সমন্বয় জরুরি।
* নদী ভাঙ্গন রোধ ও সংকট সমাধান।
* উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্থ স্থবিরতা।
* স্থানীয় দ্বন্দ্ব ও দু,দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা।
* নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি ও বেকারত্ব।
* জেলা ও জেলা পরিষদের প্রশাসকের হস্তক্ষেপ জরুরী ।বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী ইছামতি, কালিন্দী নদীতে বিজিবি,র নিষেধাজ্ঞায় শ্যামনগরের কৈখালী, কালীগঞ্জের বসন্তপুর, খারহাট, রতনপুর, দেবহাটার খানজিয়া, বসন্তপুর সীমান্ত নদীর বৈধ বালু মহল ইজারা নিয়ে জটিলতা, ড্রেজিংয়ে নিষেধাজ্ঞা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে স্থানীয় লোকাল বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ, শ্যামনগর, আশাশুনি, দেবহাটা, কলারোয়া, তালা,সাতক্ষীরা সদর উপজেলাসহ ৭ উপজেলা জুড়ে তীব্র বালু সংকট দেখা দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে ২০২৩ সালের শেষ দিক হতে এ অঞ্চলে সড়ক ও জনপদ বিভাগের সাতক্ষীরা, কালিগঞ্জ, শ্যামনগর, ভেটখালী মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, আম্পান প্রকল্প, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প,১৯৩০কোটি টাকার সাতক্ষীরা উন্নয়ন প্রকল্প, এডিপি ,উপজেলা উন্নয়ন তহবিল, ডিজিস্টার ব্রিকস ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সেতু, ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প ,সার্বজনীন সমাজ উন্নয়ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ,ইউনিয়ন পরিষদ ভূমি অফিস নির্মাণ প্রকল্প সহ বিভিন্ন উন্নয়নের হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ধীরগতি ও থমকে বাধাগ্রস্থ, স্থবির হয়ে দাঁড়িয়েছে । জাপান বাংলাদেশ (জাইকা) উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কালিগঞ্জ আর এন্ড এইচ মোহাম্মদিয়া জামে মসজিদ হতে বাঁশতলা অভিমুখে ৮ কোটি টাকার রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প গত ৩ বছরেও বালু সংকটের কারণে শেষ না হয়েও দীর্ঘ সূত্রতায় থমকে আছে। এই ভাবে সাতক্ষীরার ৭ উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন সড়ক ,ব্রিজ কালভার্ট ,রাস্তা ,স্কুল ,সরকারি ভবন সহ বিভিন্ন বাঁধ ও কাঁচা সড়কের উন্নয়ন কার্যক্রম ধীরগতি, বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। যে কারণে জন দুর্ভোগ এবং জন ভোগান্তি ছাড়াও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ঠিকাদারদের নির্ধারিত সময়ের পরে কাজ করতে নির্মাণ খরচ বেশি বিটুমিনের দাম ১০ হাজার হতে ১৮,৫০০ টাকা, পাথরের দাম ও নির্মাণ শ্রমিকের মজুরি বাড়ার কারণে অনেক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা সহ কাজ ফেলে পালিয়ে যাওয়ার মতন ঘটনা ঘটছে তার উপরে বালু সংকট । এ সংকট থেকে রেহাই পাচ্ছে না জেলায় বসবাসকারী সাধারণ জনগণ। তাদের ও বাড়িঘর নির্মাণ ও সংস্কারে বালু সংকটে ভোগান্তি সহ অতিরিক্ত ব্যয়ে নাজেহাল হয়ে পড়েছে। ২/৩ গুণ দামে বালু কিনতে হচ্ছে । অনেকেই আশা করেছিল আপদকালীন সরকারের পরে একটি নির্বাচিত সরকার আসলে জন দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সংকটের সমাধান হবে। কিন্তু সেটা না হয়ে সংকট,সমস্যা আরো তীব্র আকার ধারণ করায় উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ, জনদুর্ভোগ, বেকারত্ব, কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য এবং উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিতে সম্মিলিত ভাবে সাতক্ষীরা ৪ টি আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আলহাজ্ব ইজ্জতুল্লা, আব্দুল খালেক, হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এবং জি,এম নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবের এক্ষুনি এগিয়ে এসে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কথা বলে এর একটা সুষ্ঠু সমাধানের দাবি এ অঞ্চলের মানুষের। বালু মহল ছাড়া বিকল্প স্থানীয় বালু উত্তোলনে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকায় এই অঞ্চলে কোন বিল বা পুকুর, জলাশয় ও নদীর বালু মহল থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে উত্তোলন করতে গেলেই ভ্রাম্যমান আদালতের জেল জরিমানার স্বীকার হতে হচ্ছে। যে কারণে খুলনা থেকে ট্রাকে করে ২/৩ গুণ দামে বালু কিনে আনতে হচ্ছে। এতে করে কাজের সিডিউল অনুযায়ী অনেক চড়া, বেশি দামে বালু কিনে লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে কাজ শেষ করতে হচ্ছে অনেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম, শাহেদুর রহমান, ইলিয়াস হোসেন, আজিজুর রহমান, নাজমুল হোসেন সহ একাধিক ঠিকাদাররা জানান আগে যে ভরাট বালু ১০/১২ টাকা ফুট কিনেছি সে বালু এখন ২৫/৩০ টাকায় ভরাট বালু কিনতে হচ্ছে, তারপরও টাকা হলেও বালু পাওয়া যাচ্ছে না। বালুর কারণে আমরা অনেকে কাজ বন্ধ করে বসে আছি কখন বালুর ব্যবস্থা হবে সেই অপেক্ষায়। আবার অনেক ঠিকাদার ব্যয় বাড়ায় দীর্ঘসূত্রতায় কাজ ফেলে পালিয়ে যাওয়ার মতন ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।
এলজিইডির কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন এ প্রতিনিধিকে জানান সিডিউল অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করতে পারছিনা একমাত্র বালু সংকটের কারণে। সিডিউল ছাড়া অনেক বেশি ও চড়া দামে বালু কিনে কাজ শেষ করতে হচ্ছে ঠিকাদারদের। আর এই বালু সংকটে কাজের গুণগতমান ,ধীরগতি এবং দীর্ঘ সূত্রতায় উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিতে প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্থ হতে হচ্ছে। সংকটের প্রধান কারণ সাতক্ষীরা সীমান্তবর্তী দেবহাটা, কালিগঞ্জ, শ্যামনগর উপজেলার পাশে কালিন্দী, ইছামতি, কাকশিয়ালি ৩ টি
নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় সংকটে পড়েছে সরকারি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড। বালু উত্তোলন না করায় নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে নাব্য কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন এ খাতে কর্মরত অসংখ্য শ্রমিক।
পানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন মেনে পরিবেশ সম্মতভাবে বালু উত্তোলন করতে দিলে বরং সরকারেরই লাভ। একদিকে সরকার রাজস্ব পাবে, অন্যদিকে নদী ভরাট হবে না। নাব্যতা থাকলে নৌযান চলাচলেও বিঘ্ন হবে না। এতে নদীর গতিপথ যেমন ঠিক থাকবে তেমনি নদীর স্রোত ধারাও ঠিক থাকবে। এখান থেকে সরকার বাড়তি আয়ও করতে পারবে। তবে যত্রতত্র বালু উত্তোলন করা যাবে না। এক্ষেত্রে সরকারি কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। যেসব জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করলে নদীর ক্ষতি হবে সেখান থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে না। নদীতে জেগে ওঠা চরগুলো থেকে বালু উত্তোলন করা যেতে পারে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয় হতে ইজারার মাধ্যমে বালি উত্তোলন কাজ অব্যাহত ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের (বিজিবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতানৈক্যে এবং দু’দেশের সীমান্ত আলোচনা থমকে যাওয়ায় বালু উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে সংকটে, দুর্ভোগে এ অঞ্চলের উন্নয়ন কাজ। বালু মহলের ইজারা নিয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা সহ স্থানীয় শীর্ষ জন প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা করে বালু মহলের ইজরা পুনরায় চালু করন অথবা বিকল্প বালুর ব্যবস্থা চিহ্নিতকরণ একমাত্র সমস্যার সমাধান বলে সচেতন মহলের ধারণা। সাতক্ষীরার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে বালু সংকট এখন জনসংকটে পরিণত হয়েছে । যে কারণে উন্নয়নে ভাটা, ধীর গতি, বাধাগ্রস্থের প্রধান অন্তরায় বালু, এর দ্রুত সমাধান চায় সাতক্ষীরা বাসী। এ কারণে সাতক্ষীরার উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সাতক্ষীরা বাসী।
বালু সংকটে সাতক্ষীরার ৭ উপজেলার সরকারি উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্থ