ভালুকার দুই যুবকসহ সীমান্তে আটকে পড়া ব্যক্তিরা নিখোঁজ, অপর পয়েন্টে অবরুদ্ধ ৩
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পুশ-ইনের শিকার হয়ে দীর্ঘ দশ দিন ধরে আন্তর্জাতিক সীমানার শূন্যরেখায় আটকে থাকা দুই বাংলাদেশি যুবক গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের তীব্র ঝড়বৃষ্টির পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুন ২০২৬ তারিখ ভোরে গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে তাঁদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধ ও বিজিবির অনড় অবস্থানের কারণে তাঁরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। এর পর থেকেই তাঁরা সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন।
নিখোঁজ হওয়া ওই দুই যুবক হলেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কংশেরকুল গ্রামের ২৫ বছর বয়সী সজীব হোসেন এবং ১৮ বছর বয়সী হিমেল মিয়া। গতকাল দুপুরে হঠাৎ ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে সীমান্তে পাহারারত স্থানীয় লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান এবং ঠিক সেই সুযোগেই এই দুই যুবক সেখান থেকে সরে পড়েন। গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে আজ সকাল থেকে ওই দুই ব্যক্তিকে সীমান্তে আর দেখা যাচ্ছে না এবং তাঁদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, বৈরী আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে তাঁরা হয়তো বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে নিজেদের বাড়িতে ফিরে গেছেন।
এদিকে রৌমারীর সামগ্রিক সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো থমথমে কারণ একই উপজেলার ভুন্দুরচর সীমান্তে বিএসএফের একই ধরনের চেষ্টার শিকার আরও তিনজন বাংলাদেশি যুবক এখনো খোলা আকাশের নিচে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এই তিন যুবক হলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জহিরুল ইসলাম, নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার পারভেজ এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নাঈম মিয়া। অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন তাঁরা সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে দালালের সহায়তায় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে গুয়াহাটিতে ট্রেনে ভ্রমণের সময় ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন। এরপর ১৪ জুন ভোরে বিএসএফ তাঁদের রৌমারীর জিঞ্জিরা নদীর সেতুর নিচ দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি ও গ্রামবাসীদের বাধার মুখে তাঁরা শূন্যরেখায় আটকে যান।
একই দিনে রৌমারীর গয়টাপাড়া ও ইজলামারী সীমান্তে পৃথক দুটি ঘটনায় নারী ও শিশুসহ মোট নয়জন বাংলাদেশিকে পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়েছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এর মধ্যে গয়টাপাড়া সীমান্তে এক নারী, দুই শিশুসহ যে ছয়জনকে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল, তাঁদের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন। একের পর এক এমন ঘটনায় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উৎকণ্ঠাবিরাজ করছে।