কুড়িগ্রামের রাজারহাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ নিহত ১ গ্রেফতার ১১ বাড়ছে পুলিশি নজরদারি
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় দীর্ঘদিনের সড়ক বিরোধ রক্তাক্ত পরিণত হয়েছে। (১৪ জুলাই) বিকেলে উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের ডাংঘাট বটতলী গ্রামে পথ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন জাহিদুল ইসলাম জিন্নাত (৫০) নামের এক ব্যক্তি। ঘটনার পর পুলিশ ১১ জনকে গ্রেফতার করলেও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজমাল্লী-ডাংঘাট এলাকার ওই গ্রামীণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত ছিল। সম্প্রতি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর সহায়তায় রাস্তাটি পুনরায় চালু করা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে ওই রাস্তা নিয়ে পুনরায় বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ডাংঘাট গ্রামের জয়নাল গংয়ের নেতৃত্বে এক পক্ষ এবং জাহিদুল ইসলাম জিন্নাতের পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের শাবলের আঘাতে গুরুতর আহত হন জিন্নাত। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জিন্নাতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের জমি-জমা ও রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, এ ঘটনার পরপরই পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত ৮টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে সংঘর্ষে জড়িত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে জয়নাল গং-সহ কয়েকজন প্রধান অভিযুক্ত রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদিল ও ইউপি সদস্যরা এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে কাজ করছেন। তারা জানান, উভয়পক্ষকে আইন শৃংখলা বিষয়ে বুঝিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছি। তদন্ত চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পেলেই মামলা রেকর্ড করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের সার্কেল এএসপি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, যাতে কোনো পক্ষ আইন হাতে তুলে না নিতে পারে সেজন্য বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিন এলাকায় টহল জোরদার থাকবে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিচার ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।